Homeসারা দেশঝালকাঠী মুক্তার ভয়ংকর বিয়ে-কাবিন বানিজ্য আবারও রমরমা, শিকার অর্ধডজন পুরুষ

ঝালকাঠী মুক্তার ভয়ংকর বিয়ে-কাবিন বানিজ্য আবারও রমরমা, শিকার অর্ধডজন পুরুষ

Published on

spot_img

ঝালকাঠিতে রাজকন্যা বিউটি পার্লারের মালিক মুক্তা আক্তার তনু(৪০) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে প্রতারনা ও ভয়ংকর কাবিন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
প্রথমে মুঠোফোনে আলাপ, পরে প্রেম, কয়েকদিনের মাথায় বিয়ে এবং বিয়ের পরই স্বামীদের কাছ থেকে ব্যাবসার কথা বলে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ । অর্থ হাতিয়ে নিতে বিফল হলেই স্বামীদের সাথে বিবাদ, স্বামীদের বিরুদ্ধে করেন নারী শিশু নির্যাতন,যৌতুকে ও ভরনপোষণের একাধিক মামলা। ফলাফল দাড়ায় স্থানীয়দের সালিশির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ ও মামলা রফাদফা। এরপর আবারও একই নিয়মে নতুন শিকারের ফাদ, টার্গেট প্রবাসী ও সমাজের অর্থ বিওবান পুরুষরা। শুনতে সিনেমার কাহিনী মনে হলেও বাস্তবে দুই যুগ ধরে চলছে মুক্তার এই ভয়ংকর বিয়ে-কাবিন বাণিজ্য, পরিবর্তন করেছেন অর্ধডজন স্বামী ।

মুক্তা আক্তার ঝালকাঠি নগরীর চাদকাঠী চৌমাথার বাসিন্দা মৃত আঃ হকের মেয়ে। স্থানীয় সূএে জানা যায় মুক্তা ও তার পরিবার প্রতারণা কে জীবিকা নির্বাহের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে , ওই পরিবারের অন্য সদস্য খোকন ও মুন্নির বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক বিবাহ প্রতারণার একই অভিযোগ। মুক্তার বড়ভাই খোকন ও বোনজামাই নজরুলের নেই নির্দিষ্ট কোন আয়ের পথ, প্রতারণার টাকায় বিলাসী জিবন কাটায় এরা সহ পুরো পরিবার। মুক্তার মামলা বানিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে মা তহমিনা বেগম, ভাই খোকন, বোন জামাই নজরুল, কাজী বশির উদ্দিন, আইনজীবী বনি আমিন। নির্ভরযোগ্য সুএে জানা যায়, ঝালকাঠি বিয়ে রেজিস্ট্রার কাজী বশির উদ্দিন, মুক্তার আইনজীবী বনি আমিন ও প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যাক্তির সাথে তার সক্ষতা থাকায় স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় এসব অপকর্ম করে।

মুক্তার জন্মসাল ১৯৮৬ হলেও বশির কাজী প্রতিটি বিয়ে করান ১৯৯২ বলে এবং বিয়েতে লাগেনা কোন উপস্থিত সাক্ষী, পরে গোপনে বিয়ের কাবিনে নিজের লোকদের দিয়ে লিখিয়ে রাখেন সাক্ষীর নাম , বনি আমিন মামলা পরিচালনা করতে নেয় না কোন ফি পারিশ্রমিক এবং প্রতিটি মামলার সাক্ষী বানায় মা তহমিনা, ভাই খোকন ও বোন মুন্নি ও লাইলিকে। বিনিময়ে কাজী, আইনজীবী ও ব্যক্তিরা পায় ভুক্তভোগীদের সাথে মীমাংসার টাকার ভাগ। ২০০৪ সালে পারিবারিকভাবে রাজাপুরের বাসিন্দা খলিল মাঝির সাথে মুক্তার প্রথম বিয়ে হয়। করেন ৫ বছর সংসার, নেই কোন সন্তান। খলিল গার্ডের চাকরি করতেন তার আর্থিক অবস্থা ছিল খারাপ। অর্থ ও বিলাসীতার লোভে মুঠোফোনে প্রবাসী কামালের সাথে পরকিয়ায় জরিয়ে পরে মুক্তা। ২০০৯ সালে তালাক না দিয়েই খলিলের ভাড়া বাসা থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে মালামাল নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে মুক্তা, বিয়ে করেন কেওতা এলাকার প্রবাসী কামালের সাথে। প্রবাসে থাকার সুযোগে বিয়ের পর কামালের কাছ থেকে বিভিন্ন বাহানায় ৭ বছরে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা ও স্বর্নলংকার এবং জড়িয়ে পড়েন একাধিক পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও পরকীয়ায় । কামাল ছুটিতে একাধিকবার দেশে আসে এবং পরে বিষয়টি টের পেলে বাধে বিপত্তি।

ছুটি শেষে কামাল প্রবাসে চলে যায় এবং ফোনে তার পাঠানো সকল টাকার হিসাব চাইলে মুক্তা সংসার করবে না বলে জানায় এবং আত্মহত্যার হুমকি দেয়। পরে ২০১৫ সালে কামালের বাড়ি থেকে সকল টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে মুক্তা আরেকজন দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমিক, বয়সের অন্তত ১০ বছরের ছোট সুগন্ধিয়ার বাসিন্দা রমজানে ওরফে জহিরের সাথে মুক্তা পালিয়ে যায়। ২০১৬ সালে কামাল কে ডিভোর্স নোটিশ দেন, বিয়ে করেন জহিরের সাথে। পরে প্রতারণার বিষয়টি জানিয়ে কামাল গণমাধ্যমে দৈনিক আলোকিত বরিশাল পত্রিকায় খবর প্রকাশ করেন মুক্তার বিরুদ্ধে।

এদিকে বিয়ের পরই মুক্তা জমি কেনার জন্য ৩য় স্বামী জহিরের কাছে দাবী করেন ১০ লক্ষ টাকা। টাকা দিতে অস্বীকার করায় জহিরের বিরুদ্ধে করে নারী শিশু নির্যাতন নং-৮২/১৭ ও ৯৭/২০ পারিবারিক নং-০৩/২১ আরও একাধিক মিথ্যা মামলা। দেখান থানা পুলিশের ভয় ভীতি এবং একাধিকবার খাটান জেল। জহিরের পরিবার নিরীহ ও বাপের এক মাত্র ছেলে হওয়ায় ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে ২০২২ সালে সালিশির মাধ্যমে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পায় এবং করে রফা দফা। আরও জানা যায় যে, জমাদ্দার মামুন নামে বিবাহিত শহরের একজন রড সিমেন্ট ব্যবসায়ীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক, অবাধে যাতায়াত ও মেলামেশা ছিল। রয়েছে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও কল ফুটেজ এবং কল রেকর্ড। মামুন জমাদ্দারের সাথে কাগজ-কলমে করেননি বিয়ে কিন্তু জহিরের সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর মুক্তার নতুন ভারা বাসার যাবতীয় মালামাল জমদ্দার মামুন কিনে দিয়েছেন, দিয়েছে কাপড়ের দোকান এবং একাধিক লোনের টাকা তুলে। জহিরের পর ২০২৩ সালে মুঠো ফোনে আলাপে একই কৌশলে ফাঁসান ১০ বছরের ছোট আরেক যুবককে নাম আমিনুল। করেন আত্মহত্যার ব্লাকমেইল ও হুমকিদেন মামলা করার।

একপর্যায়ে ঐ যুবকের মোবাইল জিম্মি করে জোর করে তার নিজস্ব লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে করেন বিয়ে। বিয়ের পরই আমিনুলের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন ৩ লক্ষ টাকা, ব্যাবসা করার জন্য দাবি করে আরও ৬ লক্ষ টাকা। দিতে অস্বীকার করায় থানায় একাধিক মিথ্যা অভিযোগ ও যৌতুকের মিথ্যা মামলা- ৪৭৭/২৩ করে আমিনুলের বিরুদ্ধে। এরই মাঝে মুক্তার এই স্বামীর ঘরে একটি কন্যা সন্তান লাভ করেন। যেহেতু তার মেয়ে হয়েছে, অন্য কোন ঘরে সন্তান নেই, তাই তখনকার স্থানীয় কমিশনার হাফিজ আল মাহমুদ সালিশ করে সংসার করার জন্য মিলিয়ে দেন। করেন লিখিত রোয়েদার, মুক্তা দেনমোহরের অর্ধেক টাকা নেন, শুরু করেন রাজকন্যা নামক পার্লার ব্যাবসা এবং প্রতিশ্রুতি দেন মিথ্যা মামলা না করে সংসার করার। কিন্তু কয়েকমাস পরেই আবারও স্বামীর কাছে অর্থ দাবী করে এবং না দিলে মিথ্যা মামলা ও জেল খাটানোর হুমকি দেয় । বিষয়টি, জেলা লিগ্যাল এইডে লিখিত জানিয়ে, এবং মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে ৩০/১০/২০২৪ মুক্তাকে রেজিস্ট্রিকৃত তালাক দেন তার এই স্বামী।

এরপরে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে করেন একাধিক মিথ্যা মামলা, যৌতুকের-৭৪১/২৪, পারিবারিক- ০৩/২৫, থানায়-৫০/২৫। অভিযোগ করেছেন স্বর্নলংকার টাকা পয়সা লুট ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও প্রাননাশের হুমকি দেয়ার, ফলে স্বামীকে থানায় ডেকে নিয়ে নং-৫০/২৫ মামলা দিয়ে খাটিয়েছেন ৫ দিন জেল। পরে মামলা তুলে নেওয়া ও মীমাংসা জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে ৭ লক্ষ টাকা দাবি করলে, তার এই স্বামী আমিনুল দিতে অস্বীকার করায় মামলা এখনো চলমান। প্রশ্ন হল এতসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পরও একজন নারী কিভাবে এতগুলো মিথ্যা মামলা করে ও প্রশাসনের সহায়তায় সবাইকে হেনস্তা করে বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত দরকার। এরই মাঝে চলতি মাসে গোপনে আরেকজন আর্মি কুয়েত প্রবাসী মফিজুর রহমান এর সাথে মুক্তার বিয়ের খবর পাওয়া যায়। জানা যায় মুক্তা ও মফিজ বিয়ের খবর গোপন রেখেছে মফিজের সরকারি চাকরির ঝামেলা হবে সে জন্য। মফিজ বর্তমানের রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টে আর্মি পার্সন হিসেবে চাকরি করে, এবং আর্মির মাধ্যমে সে কুয়েতে চাকুরীরত প্রবাসী । এলাকাবাসী ক্ষোভ জানিয়েছে, এই নারীর চারিত্রিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টি এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সুস্থ তদন্ত করে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। না হলে এরূপ নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা ভবিষ্যতে সমাজের ও এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট করবে।

Latest articles

নতুন করে ইরানের কাছে ৩ মার্কিন রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। নভেম্বরের শেষ...

শরীরে ট্যাটু থাকলে কি অজু হবে?

বর্তমান সময়ে ট্যাটু বা উল্কি আঁকার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে...

‘ইরান গ্রানাইট পাথরের মতো শক্ত; পরাজিত করা সম্ভব নয়’

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ড্যানিয়েল ডেভিস ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী...

কথা-কাটাকাটির জেরে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত, ফাঁকা গুলি

রাজধানীর বাংলামোটরে বিরোধের জেরে সোহাগ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত...

More like this

নতুন করে ইরানের কাছে ৩ মার্কিন রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। নভেম্বরের শেষ...

শরীরে ট্যাটু থাকলে কি অজু হবে?

বর্তমান সময়ে ট্যাটু বা উল্কি আঁকার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে...

‘ইরান গ্রানাইট পাথরের মতো শক্ত; পরাজিত করা সম্ভব নয়’

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ড্যানিয়েল ডেভিস ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী...