সরকারি প্রকল্পের নাম ও লোগো ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (NSDA) অধীনে মূল্যায়ন পরীক্ষা না হওয়ায় সনদ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ২০০ জনের বেশি প্রশিক্ষণার্থী।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার পোস্ট অফিসসংলগ্ন একটি ভবনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির প্রচার-প্রচারণায় বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ASSET (Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation) প্রকল্পের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে তারা সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
তবে ASSET প্রকল্পের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি প্রকল্পটির আওতাধীন নয়। প্রকল্পের নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়ে থাকলে বিষয়টি প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়।
কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ভর্তি হওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকেই এখনো NSDA-এর অধীনে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে একের পর এক ব্যাচে পাঁচটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও প্রশিক্ষণ শেষে সনদ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ প্রশিক্ষণার্থীদের। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি NSDA-এর অধীনে রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল্যায়ন পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও চার মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এখনো পরীক্ষা না হওয়ায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেও সনদ পাচ্ছেন না তারা। এ ছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, তাদের ঠিকমতো প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় ও পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কী খাতে এসব টাকা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। প্রশিক্ষণ শেষ করেও পরীক্ষা ও সনদ না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ করে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের NSDA সনদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোছাঃ পুণ্য আলমগীর নামে একজন তরুণী প্রশিক্ষণার্থী বলেন, আমরা নিয়ম মেনে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে মূল্যায়ন পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চার মাস পার হয়ে গেলেও এখনো পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। কবে পরীক্ষা হবে, সেটিও আমাদের স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। পরে জানতে পারি, আমাদের নাম পরীক্ষার তালিকায় নেই। আমরা নাকি পরীক্ষা দিতে পারব না।
আতিক ফয়সাল নামে একজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন পরীক্ষা না হলে সার্টিফিকেট পাব কীভাবে? সম্প্রতি পরীক্ষার একটি তারিখ দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু পঞ্চগড় থেকে রংপুরে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের কয়েকজনের নাম পরীক্ষার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল), প্রশাসন-১-এর মহিন উদ্দিন বাহার বলেন, এই নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। কিন্তু কখনো কেন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি, এ বিষয়ে দেখতে হবে। যারা আবেদন করেছে, তাদের সবাইকে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তারা হয়তো আবেদন করেননি।
সরকারি ASSET প্রকল্পের নাম ও লোগো ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ASSET প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক-১ প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত বলেন, আমাদের নাম করে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এই প্রতিষ্ঠান ASSET প্রকল্পের আওতাধীন নয়। তারা আমাদের না জানিয়ে অবৈধভাবে লোগো ব্যবহার করে থাকলে এটি এক ধরনের প্রতারণা।
তবে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমির সোমা আক্তার বলেন, আমরা এখনো পরীক্ষার অনুমতি পাইনি। এজন্যই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শিগগিরই রংপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভীন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ


