বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য এ এলসি খোলা যাবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে পৃথক দুটি নির্দেশনা জারি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংক ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি এলসি খুলতে পারবে। এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমদানি এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭(কক)(৩) ধারার বিধান আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে না।
তবে এ সুবিধার ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ ধরনের ঋণসুবিধার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে এ সুবিধার আওতায় রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তাও দাবি করতে পারবে না।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় অবস্থিত এসএস পাওয়ার-১ একটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। বেসরকারি খাতে নির্মিত কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এস আলম গ্রুপের অংশীদারিত্ব ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের প্রতিষ্ঠান সেপকো থ্রি ও এইচটিজি।
কেন্দ্রটিতে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০২২ সালের ২৪ মে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। একই বছরের ২৮ জুন দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। দুটি ইউনিট মিলিয়ে এসএস পাওয়ার-১-এর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।
কুশল/সাএ


