বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কোনো সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি, সমগ্র দেশের মানুষ, ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব জেলা-উপজেলার মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। এই বিদ্যুৎ সমস্যার পেছনে রয়েছে স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপ। তাদের অপরিকল্পিত পরিকল্পনার কারণেই আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আগামী ২৭ তারিখ আবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশনে আপনাদের দল ও সরকার দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করবে কীভাবে আগামী ১০ বছরে ইনশাআল্লাহ এই দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে যখন সংকট চলছে, তখন যেকোনো সংকট মোকাবিলায় আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা গ্রহণ করে ধীরে ধীরে এগোতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায়, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি, একদিনে সব সমস্যার সমাধান হবে না। স্বৈরাচার এই দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রতিটি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল। সরকার গঠন করার পর আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এসব পেয়েছি। সেজন্য আমাদের ধ্বংস থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে।”
উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এমপি সাহেব একটু আগে এখানে ব্রিজ ও রাস্তার কথা বলেছেন। যদি দেশে উন্নয়নই হয়ে থাকে, তাহলে এসব কাজ এত বছরেও হলো না কেন? এর কারণ হলো, এর আগে যারা দেশের শাসনভার দখল করে রেখেছিল, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। আর সে কারণেই তারা জনগণের জন্য কোনো কাজ করেনি।”
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
রোহান/সা.এ.


